নব-বর্ষে আদি কথা।

শ্রী গণেশায় নমঃ’ ‘শুভলাভ’ পয়লা বৈশাখ মানেই প্রাণের উচ্ছ্বাস।
বৈশাখের একটি দিন বাঙালি ভুলে থাকতে চায় পুরোনো বছরের সমস্ত জরা জীর্ণতা। লুকিয়ে রাখে একান্তিক অপ্রিয় দুঃখ গুলি। নববর্ষ নিয়ে আসে নব প্রত্যয়, নব প্রত্যাশা। বছরের আর পাঁচটা দিন যতই অন্য রকম হোক না কেন, আজকের দিনটিতে বাঙালিদের খাবার থেকে সাজগোজ সবেতেই চাই সাবেকিয়ানার পরশ। তবে প্রশ্ন ওঠে পয়লা বৈশাখ তথা বাংলা বঙ্গাব্দ এর সূচনা কবে থেকে, বঙ্গাব্দের উৎপত্তিই বা হল কী ভাবে! এ বিষয়ে রয়েছে বিস্তর বিতর্ক। ঐতিহাসিকদের মতে সব থেকে গ্রহণযোগ্য মত হল, মোগল সম্রাট আকবরের শাসনকালেই এর সূচনা। অন্যদিকে, গৌড়বঙ্গের রাজা শশাঙ্কের রাজত্বকালে বঙ্গাব্দের উৎপত্তি বলেও মনে করা হয়। ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে দেখা যায়, কর্ণসুবর্ণ-র সিংহাসনে রাজা শশাঙ্ক ৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দে আরোহণ করেন । আর তাঁর রাজ্যাভিষেকের বছর থেকেই অব্দ বা বৎসর গণনা করা হয়, তাই বঙ্গাব্দ। তবে এই ধারণার পক্ষে জোরালো কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। শশাঙ্কের সময়ে বা তার পরবর্তী সময়ে কোনও লিপিতেই কিন্তু এমন কোনো অব্দের উল্লেখ্য নেই । অতএব আকবরের রাজত্বের আগে পর্যন্ত বঙ্গাব্দ ব্যবহারের সঠিক প্রমাণাদি নেই। তবে বঙ্গাব্দের জটিল বিতর্কে খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই আমাদের, বৈশাখ এলেই আমদের মনে গুন গুন করে রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি, ‘মুছে যাক গ্লানি মুছে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ অনুষ্ঠানের দিনগুলিতে মন লাগাম ছাড়া হয়ে পড়ে। মুক্তি পেতে চায় ছুটো -ছুটি ময় একঘেঁয়েমি থেকে। আগামীকাল থেকে আবারও দশটা পাঁচটার সিডিউলে জীবন বাঁধা। তবুও গোলাপী মলাটের নতুন পঞ্জিকার গন্ধ, ভাঁজ খোলা নতুন পোশাক আর ফ্রিজে সঞ্চিত রাখা মিষ্টির বাক্সগুলো বেশ কয়েকটি দিন এনার্জি ডোস হয়ে মনকে বশীভূত করে রাখবে কর্মক্ষেত্রে।

[ ছবি ও তথ্য সংগ্রহীত। ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *