Flood in Haldibari – হলদিবাড়িতে বন্যা পরিস্থিতি

Flood in Haldibari – হলদিবাড়িতে বন্যা পরিস্থিতি

১০, ১১ ও ১২ই আগষ্ট, ২০১৭ হলদিবাড়ি সহ গোটা উত্তরবাংলার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গত ৩০ এমনকি ৫০ বছরেও এমন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সন্মুখীন হলদিবাড়ির মানুষ হয়নি। ১০ তারিখ বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যে ৭টা পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টিতে হলদিবাড়ি শহর ও ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চলে জল জমতে শুরু করে এবং কিছু কিছু অংশে জল প্রচন্ড ভাবে বাড়তে থাকে। তারপর সারারাতের বৃষ্টি আরো অবস্থার অবনতি ঘটায়। পরের দিন ১১ তারিখ সকাল থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়। তারপর কিছুটা স্বস্তি দিলেও বিকাল ৪টার পর থেকে একটানা মুষলধারে বৃষ্টি সারারাত জুড়ে পরের দিন অর্থাৎ ১২ তারিখ বিকাল পর্যন্ত চলায় হলদিবাড়ি ব্লক এক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। কোনো কোনো স্থানে প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত জল জমে যায়।

pic by Anirban Roy

এই বন্যা বির্ধস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ায় হলদিবাড়ির বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্লক প্রশাসন, স্থানীয় বিধায়ক। এছাড়া হলদিবাড়ির স্থানীয় সাধারণ মানুষরাও এই বন্যা কবলিত মানুষদের সাহায্য করে নানা ভাবে। ত্রান সামগ্রী হিসাবে শুকনো খাবার, যেমন- মুড়ি, চিড়া, গুড়, পাউরুটি ইত্যাদি মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া খিচুড়ি, জলের প্যাকেটও ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় পৌছে দেওয়া হয়। ১২ ও ১৩ তারিখ এই দুই দিন ত্রাণ শিবির চলে। ১৩ তারিখ বিকালের পর থেকে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে ও বিভিন্ন এলাকায় জল কমতে থাকে। ব্লকের ছয়টি অঞ্চলই দারুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ ভাবে দেওয়ানগঞ্জ ও পারমেখলিগঞ্জ অঞ্চলটি। প্রচুর ফসলের ক্ষতির সামনা করতে হয় কৃষক শ্রেনীর মানুষদের। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ঘাট ভেঙে যায়, গাছ উপড়ে পড়ে, সেতুর ক্ষতি হয়, ঘর বাড়ির আসবাবপত্র নষ্ট হয়।

হলদিবাড়ির ব্লকের পার্শ্ববর্তী জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকা যেমন মানিকগঞ্জ, সাতকুড়া, ঘুঘুডাঙা, বেরুবাড়ি ভীষণ ভাবে বন্যার কবলে পড়ে। ফলে সেই স্থানগুলির সাথে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উত্তরবঙ্গে বন্যা ঘোষিত হওয়ার পর রেল কর্তৃপক্ষ উত্তরবঙ্গের সমস্ত ট্রেন বাতিল করে দেয়। সড়কপথেও বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন হয়।

Flood in Haldibari

অবশেষে ১৪ তারিখ হলদিবাড়ির মানুষ স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে। হলদিবাড়ি রৌদ্রের মুখ দেখে। সাধারণ জীবনযাত্রা আবার পুরনো গতি ফিরে পায়। স্কুল, কলেজ, অফিস আবার স্বাচ্ছন্দে ফিরে আসে। চারিদিকে জল নামতে শুরু করে। তবে এই চরম বন্যা পরিস্থিতি মানুষের মনে এক আতঙ্কের ছাপ ফেলে যায়। মানুষ দিন রাত ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে যেন এইরকম দুর্যোগের সামনা তাদের ভবিষ্যতে আর কোনোদিন করতে না হয়।

 

Saikat Chakraborty

বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই সৈকত চক্রবর্তীকে তথ্যগুলি দিয়ে সাহায্য করবার জন্য।

[চিত্র: সংগ্রহীত]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *