Remembrance the folk legend Abbasuddin Ahmed – Folk carnival at Haldibari

 

আব্বাস স্মরণে হলদিবাড়ি

Remembrance the folk legend Abbas - Folk carnival at Haldibari

 

উত্তরবাংলার  লোক নৃত্য,নাটিকা , লোক গীতির খ্যাতি সাড়া দেশজুড়ে।  আর বাংলার লোক সংস্কৃতির বৃহৎ  মঞ্চে হলদিবাড়ি বার বার তার প্রতিভার সমৃদ্ধ ভান্ডার তুলে ধরেছে।  সারা  বাংলা জুড়ে কদর রয়েছে হলদিবাড়ির  লোকশিল্পী দের।

ইংরেজি চলতি মাসে  সঙ্গীত সম্রাট আব্বাস উদ্দীন আহমেদ স্মরণে হলদিবাড়ি তরুণ সংঘের  উদ্যোগে ও মেখলিগঞ্জ বিধায়ক  অর্ঘ্য  রায়  প্রধান এর  অনুপ্রেরণায়  মেলার মাঠ ময়দানে   তিন দিন ব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত  হয়ে গেল   লোক সংস্কৃতি উৎসব. প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এর মধ্য দিয়ে গত ২২ শে জানুয়ারী  অনুষ্ঠানটির শুভ সুচনা হয়। শ্রদ্ধেয় আবাস উদ্দীন আহমেদ ছিলেন ওপার বাংলা (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ) বিখ্যাত ভাওয়াইয়া সঙ্গীত শিল্পী।  লোক মুখে কথিত আছে যে বাংলা ভাগের পরবর্তি সময়  ভারত -এর  প্রধান মন্ত্রী জহরলাল নেহেরু আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এর গান শুনতে চেয়েছিলেন তাই সুদূর ওপার বাংলা থেকে তাঁকে বিশেষ অনুরোদ করা হয়েছিল ভারত-এ আসবার জন্য।   এক সময় সামাজিক সংস্কার ও রক্ষণশীলতার চাপে ভাওয়াইয়া সঙ্গীত বিলুপ্ত প্রায়  হয়ে উঠেছিল. আব্বাসউদ্দীন আহমেদের কন্ঠেই  প্রথম ভাওয়াইয়া  সঙ্গীত শহুরে শিক্ষিত সমাজে জনপ্রিয়তা লাভ করে।তিনিই প্রথম  ভাওয়াইয়া গান  গ্রামাফোনে রেকর্ড বন্দী করেন।  এবং  পরবর্তী সময় ১৯৫৫ খ্রি: দক্ষীন এশিয়ার সঙ্গীত সম্মেলন ও ১৯৬৫ খ্রী: জার্মানীর স্টুটগার্ড শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত  সম্মেলনের মঞ্চ থেকে   তিনি  উত্তরের মাটি ও মানুষের করুণ  মর্মস্পর্শী সুর ভাওয়াই কে পৌছে দেন বিশ্বের দরবারে।  দোতরা বাজিয়েই মূলত উত্তরবাংলার পল্লী গায়ের লোক শিল্পীরা ভাওয়াইয়া  গান  পরিবেশন করে থাকেন বলে  এই গান   ‘দোতরার গানরূপেও খ্যাত.  সে সময় গ্রাম গঞ্জের ভাওয়াইয়া, পালাটিয়া শিল্পী দের দোতরা হত  কাঠের, খানিক  শৌখিন ও  অবস্থাপন্ন শিল্পীরা  দোতরার মাথায় পেতল কিংবা রুপোর দিয়ে নকশা করে থাকতেন।  সদ্য বিভাজিত দুই দেশ জুড়ে খ্যাতনামা ভাওয়াইয়া শিল্পী আব্বাসউদ্দীন এর  দোতরা  মাথা ছিল সোনায়  মোড়ানো। তবে সেই সোনা মোড়া দোতরা নিয়ে ভারত এর মাটিতে গান শোনাতে এসে তাঁকে রীতিমত  বিপত্তি তেও   পড়তে হয় বলা হয়ে থাকে সেই সোনা মোড়া দোতারা সঙ্গে নিয়ে  তিনি যখন ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চিলাহাটি তে পৌছান  কর্মরত সীমান্তরক্ষীরা তাঁর  দোতরা টি আটক করেন।  কারণ সোনা সহযোগে সীমান্ত পারাপার নিষেধ।  দোতরা আটক এর  খবর সে সময়কালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহুরু নিকট পৌছতেই প্রধামন্ত্রীর নির্দেশে তৎক্ষণাৎ  উড়োজাহাজে আব্বাস উদ্দিন এর দোতরা টিকে  দিল্লী  নিয়ে যাওয়া  হয়।  

           লোক সংস্কৃতি বলে – সে অঞ্চলের কথা তুলে ধরে  সে অঞ্চলের মানুষের জীবন শৈলীর কাহিনী, এমনিই  উত্তরের মানুষের  নান্দনিক  চেতনায়   ফসল উত্তর বাংলার রাজবংশী লোক সংস্কৃতি। উত্তরের লোক সংস্কৃতি আদি অকৃত্রিমতাই  করে তুলেছে তাকে শ্রেষ্ট। ছোট্ট শহর হলদিবাড়ির জনমানুষের আদি ও অকৃত্রিম , আবেগ বিগলিত লোক সংকৃতির  ঝলকই  পরিবেশিত হয় দীর্ঘ তিন দিন ব্যাপী  এই আব্বাস উৎসব এর  মধ্য দিয়ে।

রাজবংশী ঐতিহ্যবাহী বৈরাতিনাচ
রাজবংশী ঐতিহ্যবাহী বৈরাতিনাচ

অনুষ্ঠান এর মধ্য দিয়ে  রাজবংশী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী  কলা, সংস্কৃতির ওপর আলোকপাত করা হয়।    শহর জুড়ে চলে উত্তরের পালাটিয়া ও রাজবংশী  নৃত্যকলা, সংস্কৃতির প্রদর্শন। প্রতিবেদনটির  মধ্য দিয়ে  শহর বাসীর  প্রানের  সুর ও  অন্তরের ভাবাবেগে পূর্ণ  লোক সংস্কৃতিকে আরও একবার ফিরে দেখার  প্রচেষ্টা মাত্র I

পালাটিয়া গানের ছন্দে সুপরিচিত "ছুকরি নাচ"
পালাটিয়া গানের ছন্দে সুপরিচিত “ছুকরি নাচ”

 

 বিশেষ  ভাবে  কৃতজ্ঞাতা জানাই  সকলের  প্রিয়     অতীব  শ্রদ্ধেয়  তপন রায়  প্রধান  মহাশয় কে   যিনি চিত্র  গুলি   দিয়ে  আমাদের  প্রতিবেদন  টিকে  সম্পূর্ণ   করতে  সাহায্য  করেছেন। 


[
তথ্য – Wikipedia, হরিশ্চন্দ্র পালের  লেখা পুস্তকাদি , ‘রোবনামচা ‘-কলমে  তপন  রায় প্রধান  এবং বিভিন্ন   পুস্তক থেকে  সংগ্রহীত   ] 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *